মাজার ব্যবসায়ীদের আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের ব্যাপারে সালাত আদায়ের বিরোধিতার স্বপক্ষের বক্তব্যটি ইসলামি শরিয়তের পরিপন্থি
সালাত হলো আল্লাহর সাথে সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম। তাই সালাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। কেননা সালাতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালাকে অত্যাধিক স্মরণ করার সুযোগ হয়। যে ব্যক্তি যত অধিক সালাত আদায় করে, সে তত আল্লাহকে স্মরণ করে। আর এভাবেই আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হয়। সালাতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যিকরুল্লাহ। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-
'অবশ্যই আমিই আল্লাহ! আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তোমরা একমাত্র আমারই ইবাদত করো। আর সালাত কায়েম করো, আমার স্মরণের জন্যই' (সুরা ত্বহা : ১৪)।
আবার রাসুল (স) বলেন, 'সালাত মুমিনদের জন্য মিরাজস্বরূপ' (ইবনে মাজাহ)।' এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, মুমিন ব্যক্তি একাগ্রতার সাথে নিয়মিত সালাত আদায় করলে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে। উদ্দীপকে বর্ণিত তরিকতপুরের মাজার ব্যবসায়ীরা নিজেদেরকে আল্লাহর প্রিয়পাত্র বলে পরিচয় দেয়। তারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম হিসেবে সালাতকে অস্বীকার করে। তারা বলেন, 'আমরা আল্লাহর সাথে একাত্ম হয়ে গেছি তাই আমাদের আর সালাতের প্রয়োজন নেই। কিন্তু উপরিউক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, সালাত আল্লাহর সাথে সান্নিধ্য লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। আর আল্লাহ তায়ালা নিজেই সালাত আদায়ের মাধ্যমে তাঁর সাথে সান্নিধ্য লাভের ঘোষণা দেন।
পরিশেষে বলা যায় যে, আল্লাহর সাথে সান্নিধ্য লাভের জন্য সালাতই হলো সর্বোত্তম মাধ্যম। তাই মাজার ব্যবসায়ীদের আল্লাহর সাথে সান্নিধ্য লাভের ব্যাপারে সালাত আদায়ের বিরোধীতার স্বপক্ষের বক্তব্যটি ইসলামের পরিপন্থি।
Related Question
View Allঅর্থের সাথে সম্পর্ক থাকায় হজ সর্বজনীন ইবাদত নয়। হজ একটি দৈহিক, আত্মিক ও আর্থিক ইবাদত। নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষেই কেবল হজ কোনো ব্যক্তির ওপর ফরজ হয়। এক্ষেত্রে দৈহিক ও আর্থিক সামর্থ্য প্রধান দুটি শর্ত। কিন্তু এই পৃথিবীতে সবার একই সাথে দৈহিক ও আর্থিক সামর্থ্য না থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই যাদের ক্ষেত্রে এ দুটি শর্ত পূরণ হয় কেবল তাদের জন্যই হজ ফরজ।
জাউদ্দীপকে সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্বের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। সালাত একটি আনুষ্ঠানিক ও দৈহিক ইবাদত। তবে সালাতের মূল আবেদন আত্মিক ইবাদত হিসেবে। সালাত মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে মানসিক প্রশান্তি সৃষ্টি করে। এটি সালাতের আধ্যাত্মিক গুরত্বেরই প্রতিফলন। উদ্দীপকেও রবিউল আলম সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্বের ফলভোগী হয়েছেন।
রবিউল আলম কিছুদিন পূর্বেও ধর্ম-কর্মে মনোযোগী ছিলেন না। তার আত্মা ছিল কলুষিত। কিন্তু সালাত আদায় করার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে সালাতের মাধ্যমে মানবাত্মা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে। কাঙ্ক্ষিত প্রিয় সত্তার সান্নিধ্য লাভ করায় আত্মার উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা দূর হয়ে যায়। তার মধ্যে প্রশান্তি বিরাজ করে। ফলে আত্মার সার্বিক অবস্থানে স্থিরতা ও তৃপ্তি নেমে আসে। উদ্দীপকের রবিউল আলমের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছে। সালাত আদায়ের মাধ্যমে তার কলুষিত আত্মা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করেছে। সুতরাং দেখা যায়, রবিউল আলমের আত্মিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সালাতের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যই প্রতিফলিত হয়েছে।
রবিউল আলম আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য সালাত আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহর জিকর, তাবলিগ, সৎ গুণাবলির অনুসরণ, তওবা ও মাগফিরাত কামনা করতে পারেন।
মানুষের চালিকাশক্তি ও জীবনীশক্তি হলো আত্মা। আত্মা সুস্থ থাকলে মানুষও সুস্থ থাকে। আর আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও সুস্থ রাখার জন্য তাসাউফের অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। উদ্দীপকের রবিউল আলমও তাসাউফের চর্চা সাধানার মাধ্যমে পরিপূর্ণ আত্মিক প্রশান্তি লাভ করতে পারেন।
রবিউল আলম নিয়মিত সালাত আদায় করেন। আত্মাকে সুস্থ রাখতে তিনি সালাত আদায়ের সাথে সাথে বেশি করে আল্লাহর জিকর করতে পারেন। আবার নিজে সৎ পথে চলার পাশাপাশি তিনি অন্যকেও সৎ কাজের জন্য উৎসাহিত করতে পারেন। এর ফলে তার আত্মা সুস্থ ও পবিত্র থাকবে। তাছাড়া তিনি রাসুলুল্লাহ (স) ও তার সাহাবি (রা) গণের জীবনের সৎগুণাবলির অনুসরণের মাধ্যমেও আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারেন। তবে তিনি যেহেতু পূর্বে অনেক অন্যায় করেছেন, সেহেতু সব সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। তওবার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অন্যায় না করার দৃঢ় প্রত্যয় জ্ঞাপন করলে তার আত্মা আরও প্রশান্তি লাভ করবে।
এভাবে ওপরের কাজগুলোর মাধ্যমে তিনি আত্মিকভাবে লাভবান হতে পারেন। পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত বিষয়গুলো তাসাউফ চর্চারই নামান্তর। তাই তাসাউফ চর্চা ও সাধনার মাধ্যমেই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে আত্মিক প্রশান্তি লাভ করা সম্ভব।
হযরত উমর (রা) এর মৃত্যুর পর তার কন্যা হযরত হাফসা (রা)-এর কাছে আল কুরআন সংরক্ষিত ছিল।
পরকালীন জীবনের মতো পার্থিব জীবনের ওপরও আল কুরআন গুরুত্বারোপ করেছে। মহানবি (স) বলেছেন, 'দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র'। অর্থাৎ পার্থিব জীবনের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই পরকালীন সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারিত হবে। তাই কুরআন মানুষকে পার্থিব সাফল্য ও কল্যাণ লাভের নির্দেশ প্রদান করেছে। সুরা বাকারার ২০১নং আয়াতে বলা হয়েছে- হে আমাদের প্রভু। আমাদেরকে পৃথিবীতে কল্যাণ দিন। আখিরাতে কল্যাণ দিন।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!